একই দেশের দুই খেলোয়াড়ের যত বিতণ্ডা
বদলে গেছে ক্রিকেট। ধীর লয় আর ঠাণ্ডা মাথার খেলা ক্রিকেট প্রচণ্ড দ্রুত এবং অনেকটাই আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে বেশ আগেই।
নিজ দলের প্রতি দায়িত্ববোধ আর প্রতিপক্ষের সাথে ব্যাটে বলে জমজমাট লড়াই ক্রিকেটকে দিয়েছে রাজকীয় খেলার মর্যাদা। কিন্তু মাঝে মধ্যেই দেখা যায় দায়িত্ববোধ আর আবেগের সম্মিলিত চাপ সামলাতে না পেরে প্রতিপক্ষের কারো সাথে বিবাদে লিপ্ত হন খেলোয়াড়েরা।
এটি খুব সাধারণ দৃশ্য হলেও একই দলের সতীর্থের মধ্যে বিবাদের মত ঘটনাও দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। একই দেশের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিখ্যাত কিছু ঘটনা থাকছে এবার।
১. বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীর (ভারত):
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুজনেরই ভারতের হয়ে বিচরণ হলেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলে ভিন্ন দুটি দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন গম্ভীর ও কোহলি। ২০১৩ সালে আইপিএলে বেঙ্গালুরু ও কলকাতার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। দশম ওভারে সুইপার কাভারে ক্যাচ দিয়ে আউট হবার পর কলকাতার সব খেলোয়াড়েরা উল্লাসে মেতে উঠলে কলকাতা অধিনায়ক গম্ভীরকে লক্ষ্য করে তীর্যক মন্তব্য করেন কোহলি। গম্ভীরও পাল্টা তেড়ে আসলে দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রজত ভাটিয়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
২. সুরেশ রায়না ও জাদেজা (ভারত) :
২০১৩-১৪ মৌসুমে এক ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপপর্বের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত রায়নার বিশ্বস্ত হাত গলে সেদিন বেশ কিছু ক্যাচ বেরিয়ে যায়। যার মধ্যে সুনীল নারিনের একটি ক্যাচও ছিল। জাদেজা বোলিংয়ে এসে এক পর্যায়ে সুনীল নারিনকে আউট করে রায়নাকে লক্ষ্য করে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন। খুব স্বল্প সময় চলা বাক-বিতণ্ডার পর আবার দুজন ম্যাচ শেষে একসাথে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলেও পরে শোনা গিয়েছিল কোহলির কাছে অধিনায়কত্ব হারানো নিয়েই রায়নাকে উপহাস করেন জাদেজা।
৩. ওয়াহাব রিয়াজ ও আহমেদ শেহজাদ (পাকিস্তান) :
পাকিস্তান সুপার লিগ ২০১৬ তে পেশোয়ার জালমি বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরর্সের মধ্যকার ম্যাচ চলছিল। এক পর্যায়ে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে তার দিকে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন আহমেদ শেহজাদ। কিন্তু এরই মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য বিখ্যাত ওয়াহাব রিয়াজ আর জেদ চেপে রাখতে পারেননি। পরে শেহজাদের স্ট্যাম্প উপড়ে দিয়ে তেড়ে যান তার দিকে। দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং কিছুটা ধাক্কাধাক্কির পর আম্পায়ার ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের হস্তক্ষেপে দুজন যার যার জায়গায় ফিরে যান।
৪. ম্যাথু হেইডেন ও গ্লেন ম্যাকগ্রা ( অস্ট্রেলিয়া):
বেনসন এন্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড সিরিজে ১৯৯৪ সালে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া একাদশ বনাম অস্ট্রেলিয়া-এ দল। তখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলেও সেদিন এই দুই তারকার বিবাদ বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে। গ্লেন ম্যাকগ্রার ওভারে কাভারের দিক বল ঠেলে দিয়েই রান নিতে চেয়েছিলেন হেইডেন। কিন্তু পিচের মাঝামাঝি জায়গায় ম্যাকগ্রা অনেকটা ইচ্ছে করেই তাকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে দিলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা হয়। তবে কাউকেও কোন শাস্তি পেতে হয়নি।
৫. মোহাম্মদ আসিফ ও শোয়েব আখতার ( পাকিস্তান) :
বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার তিনি। অথচ কখনোই বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তার। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন বেশি। তেমনি একবার ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে সতীর্থ আসিফকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে টেনিস ব্যাট দিয়ে পায়ে আঘাত করে বসেন। পরে ক্ষমা চাইলেও শেষরক্ষা হয়নি তার। বিশ্বকাপের দল থকেই তাকে বাদ দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
৬. সাইমন ক্যাটিচ ও মাইকেল ক্লার্ক (অস্ট্রেলিয়া) :
২০০৯ সালে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জেতার পর ক্যাটিচ আবদার করেছিলেন সবাই মিলে অজিদের বিজয় সঙ্গীত ‘Under the Southern Cross I Stand’ গাইবেন একবার। কিন্তু এতেই বাধে বিপত্তি। মডেল বান্ধবীর সাথে উদযাপনে ব্যস্ত ক্লার্ক সে সময় গান গাইতে অস্বীকার করেন। ক্ষুব্ধ ক্যাটিচ টুটি চেপে ধরেন ক্লার্কের। এই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত কাল হয় ক্যাটিচের ক্যারিয়ারে।এ ঘটনার কিছুদিন পরই অধিনায়কত্ব পাওয়া ক্লার্ক আর ক্যাটিচকে সাথে নিয়ে খেলতে আগ্রহী হননি। অসময়ে ক্যারিয়ার গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হন ক্যাটিচ।
৭. ডগ ব্রেসওয়েল ও জেসি রাইডার (নিউজিল্যান্ড):
মাঠের বাইরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাণ্ড করে অনেকবারই খবরের শিরোনাম হয়েছেন রাইডার। সেবার ২০১৪ সালে ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ চলাকালীন সময়ে এক পানশালায় গিয়ে মাতাল অবস্থায় ঝগড়ায় লিপ্ত হন ডগ ব্রেসওয়েলের সাথে। এক পর্যায়ে ঝগড়া মারামারিতে রূপ নিলে দুজনই উল্লেখযোগ্যভাবে আহত হন। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

Post a Comment