শ্রিলংঙ্কার কাছে ফাইনালে হেরে গেলো বাংলাদেশ
রেড বুল ক্যাম্পাস ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিজনেস ম্যানেজমন্টে স্কুলের (বিএমএস) বিপক্ষে ২৪ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইউসিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব)। গল সেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আগে ব্যাট করা বিএমএস-এর ৯ উইকেটে ১৯১ রানের জবাবে ইউল্যাব ৮ উইকেটে ১৬৭ রানে করে শেষ করে ২০ ওভারের খেলা।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা। রানিতা লিয়ানারাচ্চির করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট ওপেনার সাবিত হোসেন। কোনও রান যোগ হওয়ার আগেই ইউল্যাব হারায় প্রথম উইকেট। তাতে ভড়কে যাননি অধিনায়ক হাসানুজ্জামান ও আরেক ওপেনার অভিষেক মিত্র। বড় লক্ষ্যের বিষয়টি মাথায় ছিল অধিনায়কের, তাই করেছেন ঝোড়ো ব্যাটিং। অন্য প্রান্তে দেখেশুনে খেলা অভিষেককে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। অভিষেকের বিদায়ে ভাঙে তাদের জুটি, ২০ বলে ৬ চারে ২৮ রানের ইনিংস খেলেন অভিষেক।
হাসানুজ্জামান বিএমএস বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরালেও ৩৯ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি কাঁপন ধরিয়েছিল প্রতিপক্ষ বোলারদের বুকে। তাতে আরও চাপে পড়ে ইউল্যাব। সেটা তারা উতরে যেতে পারেননি। রহমান ও ইসলাম যথাত্রমে ২ ও ৩ রানে বিদায় নিলে ইউল্যাবের তরীতে ধরে কাঁপন। ৮ রান করার পর বিদায় নেন আনজুম আহমেদও। ধীরে ধীরে ম্যাচে চালকের আসনে বসতে থাকে বিএমএস। শেষ দিকে অবশ্য খানিকটা প্রতিরোধ গড়েছিল ২০ রান করা মেরাজ নিলয়। তাতে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি ইউল্যাবের।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা বিএমএস-এর শুরুটা ভালো ছিল না। শুরুতেই উইকেট তুলে নেন মোরসালিন বিন মর্তুজা। বড় ভাইয়ের পথ ধরে জাতীয় দলে আসবেন, এই লক্ষ্যেই হয়তো খেলে চলেছেন তিনি। হ্যা, মাশরাফি বিন মর্তুজার ছোট ভাই তিনি। সেই পথে কিন্তু ভালোভাবেই এগোচ্ছেন মোরসালিন। এই পেসারই প্রথম আঘাত হেনেছিলেন বিএমএস-এর ব্যাটিং লাইনে। মোরসালিনের বলে শুরুতেই ফেরেন বিএমএসের অধিনায়ক (১৭)। ওয়ান ডাউনে খেলা ডি সারথিচান্দ্রাকে ১৪ রানে আরিফুর রহমান ফেরান প্যাভিলিয়নে। যদিও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মিচেল স্টার্ক-জেমস ফকনারদের বিপক্ষে ৬০ বলে ৫২ করা ধনঞ্জয় ডি সিলভার ২৪ বলে ৩২ রানের ইনিংস সচল রাখে বিএমএসের রানের চাকা। সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি, এ জন্য কৃতিত্বটা পাবেন মোহাম্মদ ইসলাম। পর পর দুই বলে তিনি সাজঘরে ফেরত পাঠান ধনঞ্জয় ডি সিলভা ও দাসুন শানাকাকে। এই শানাকাই কিন্তু আবার শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দলের সদস্য। লঙ্কান এই ক্রিকেটার করেন ১৯ রান। একাদশ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে এ দুটি উইকেট নেন ইসলাম।
বিএমএস ১৬তম ওভারটি ‘এনারজাইজার’ ওভার হিসেবে নেয় এবং এ ওভারটিতে ২০ রান যোগ করে তারা। মেরাজ নিলয় করেছিলেন ওভারটি, ব্যাট হাতে তার বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারেননি শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা কিন্তু চারটি ওয়াইড ও একটি লেগ বাই দেওয়াতে ভাল রান পেয়ে যায় বিএমএস, তবে শেষ বলে ১১ রানে থিলাস্কা সুমানাসিরিকে বিদায় করে ক্ষতি খানিকটা পুষিয়ে দেন নিলয়।
এর মাঝে বিএমএস ত্রাণকর্তা হিসেবে খুঁজে পায় রানিতা লিয়ানারচ্চিকে, ২৬ বলে তিনি পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ইউল্যাবের বাহাতি স্পিনার আরিফুর রহমান এ ম্যাচ শুরু করেছিলেন ১০ উইকেট নিয়ে, ২০তম ওভারটি করার গুরুদায়িত্বটা তার কাঁধেই বর্তায়, আর এ ওভারের প্রথম বলে চন্দ্রকুমারাকে ৩ রানে ও দ্বিতীয় বলে রানিতা লিয়ানারচ্চিকে ফেরান ৫২ রানে। এর আগে সারিথাচান্দ্রার উইকেট নেওয়াতে তার ঝুলিতে যোগ হয় ১৩ উইকেট, যাতে তিনি পরিণত হন এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
Post a Comment