Header Ads

ইউরোর দল পরিচিতি : ফ্রান্স

আজ ১০ জুন শুক্রবার পর্দা উঠবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ তথা ইউরো-২০১৬ এর। ইউরোর ১৫তম আসরের আয়োজক ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ ফ্রান্স। অবশ্য তারা দুই-দুইবারের চ্যাম্পিয়নও। ১৯৯৬ সাল থেকে ইউরোতে ১৬টি করে দল অংশ নিলেও এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছে ২৪টি দল। তাদেরকে ৬টি গ্রুপে বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামবে সেরা ২৪টি দেশ। তার আগে রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য ইউরো ২০১৬ তে অংশ নেওয়ার দলগুলোর পরিচিতি পর্ব তুলে ধরা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচ্য দল ফ্রান্স। ইউরোপের এই দলটির আদ্যোপান্ত রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল : যেভাবে ইউরো ২০১৬ এর চুড়ান্ত পর্বে ফ্রান্স : স্বাগতিক হিসেবে এবারের ইউরো বাছাইপর্বে খেলা না হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় গ্রুপ ‘আই’ এর পাচটি দলের সাথে ‘ফ্রেন্ডলি’ মর্যাদায় খেলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল ফ্রান্সকে। সেখানে হোম এবং অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে দশ ম্যাচ খেলে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের জয় আটটি তে, বিপরীতে ড্র দুইটি। প্রতিপক্ষের জালে তারা বল পাঠিয়েছে সর্বমোট বিশ বার। ইউরোতে ফ্রান্সের অতীত পারফরম্যান্স : ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত ইউরো খেলতে এসে চতুর্থ স্থান লাভ করা ফ্রান্স প্রথম শিরোপাটি জেতে ১৯৮৪ সালে ঘরের মাঠে মিশেল প্লাতিনির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে। ১৬ বছর পর ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরোতে জিনেদিন জিদান, দিদিয়ের দেশমদের হাত ধরে দ্বিতীয় এবং সর্বশেষবার ইউরোপিয়ান শিরোপার মুকুট নিজেদের করে নেয় ফ্রান্স। এরপর থেকে প্রতিযোগিতাটিতে আর সেভাবে দাপট দেখাতে না পারলেও শেষ আটে খেলেছে প্রতিবারই। ফ্রান্সের শক্তিশালী দিক : বেশ কয় বছর ধরেই ইউরোপ মাতাচ্ছেন পল পগবা, এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ সিজনে ওয়েস্টহ্যামের হয়ে নজর কেড়েছেন দিমিত্রি পায়েট, লিস্টার সিটির ইপিএল রূপকথার অন্যতম কারিগর ছিলেন এনগুলু কান্তে, পিএসজিতে আলো ছড়াচ্ছেন ব্লাইস মাতুইদি। ক্লাব ভিন্ন হলেও জাতীয় দলে তারা খেলেন ফ্রান্সে। এতগুলো তারকার সমাহার নিয়ে গড়া মধ্যমাঠই তাই এবারের ফ্রান্স দলের মূল চালিকাশক্তি। ফ্রান্সের দুর্বল দিক : রাফায়েল ভারানে, কুর্ট জুমা, জেরোমি ম্যাথিউর মত রক্ষণ সেনানীরা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন বেশ আগেই। এই তালিকা লম্বা হয়েছে ডোপ পাপে সাময়িক নিষিদ্ধ মামাদো সাখুও খেলতে না পারায়। এরপরো সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কসিয়েলনি, মাঙ্গালাদের মত ব্যাকআপ থাকলেও দিদিয়ের দেশম পাচ্ছেন না ফুলব্যাক পজিশনের আস্থা রাখার মত কাউকে। পেট্রিস এভরা আর সাগনার দুজনেরই বয়স প্রায় ৩৫ এর কোটায়। তীব্র গতির ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাই গতির কাছে এই দুজন ধরা পড়ে গেলে বেশ ভুগতে হবে ফ্রান্সকে। ফ্রান্সের বাজির ঘোড়া : বয়স মাত্র ২৩ হলেও এখনই ফ্রান্স ও জুভেন্টাস মিডফিল্ডার পল পগবাকে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন ধরা হয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরুপ ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকার খেতাবটিও নিজের করে নিয়েছিলেন এই জুভেন্টাস নাম্বার ১০। আন্দ্রে পিরলো ও আর্তুরো ভিদালের জুভেন্টাস ছাড়ার পর দলে কিছু করে দেখানোর সুযোগটা আরো বেড়েছে তার। প্রতি ম্যাচেই পাল্লা দিয়ে বিস্তৃত হচ্ছে তার মাঠে বিচরণ। এরই মধ্যে তাকে দলে ভেড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনাসহ বাঘা বাঘা সব ক্লাব। ঘরের মাঠে আরো একবার ইউরো পকেটে পুরতে তাই তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে ফ্রান্স। এক নজরে ইউরোতে ফ্রান্স : এর আগে ইউরোতে খেলেছে : ৮ বার শিরোপা: ২ বার বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিং : ২১ বর্তমান কোচ : দিদিয়ের দেশম ইউরো ২০১৬ তে গ্রুপ : ‘এ’ ইউরো ২০১৬ গ্রুপপর্বের প্রতিপক্ষ : রোমানিয়া, আলবেনিয়া ও সুইজারল্যান্ড ইউরোতে সেরা পারফরম্যান্স : ১৯৮৪ ও ২০০০ সালে শিরোপা জয় সাবেক তারকা ফুটবলার : জিনেদিন জিদান, দিদিয়ের দেশাম, মিশেল প্লাতিনি, থিয়েরি অঁরি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.